1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

হিন্দুত্ববাদী বন্দুকবাজ আপের সদস্য, দাবি পুলিশের

স্যমন্তক ঘোষ নতুন দিল্লি
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

জামিয়া মিলিয়ায় যে হিন্দুত্ববাদী বন্দুকবাজ হামলা চালিয়েছিল, সে আপের সদস্য৷ দাবি পুলিশের৷ তীব্র প্রতিবাদ আপের৷

https://p.dw.com/p/3XHZK
ছবি: Reuters/D. Siddiqui

দিল্লি নির্বাচনে কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপি পুলিশকেও ব্যবহার করছে বলে এ বার সরব হলেন আপ নেতৃত্ব৷ তাঁদের অভিযোগ, পুলিশকে দিয়ে মিথ্যে কথা বলিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে বিজেপি৷

গত সপ্তাহে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ছাত্রদের মিছিলে হামলা চালিয়েছিল এক বন্দুকবাজ৷ গুলিতে আহত হয়েছিলেন এক ছাত্র৷ অভিযোগ উঠেছিল, পুলিশের সামনেই কপিল গুজ্জর নামে ওই বন্দুকবাজ ছাত্রদের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে ধেয়ে যায়, কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি৷ তবে গুলি চালানোর পরে কপিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, গুলি চালানোর সময় কপিল একাধিকবার ‘জয় শ্রীরাম' বলেছিল৷ শুধু তাই নয়, বলেছিল, 'ভারতে কেবল হিন্দুদের কথা চলবে। অন্য কারও কথা নয়৷’ পরে দেখা যায়, রাস্তায় নামার আগে হাতে বন্দুক নিয়ে ফেসবুকে লাইভও করেছিল কপিল৷ সেখানেও সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক কথা বলেছে সে৷ শাহিনবাগ, জামিয়া মিলিয়াতে আন্দোলনকারীদের 'দেখে নেওয়া'র হুমকিও দিয়েছে৷ গান্ধী হত্যাকারী নাথুরাম গডসের পক্ষেও সওয়াল করেছে৷ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বর্তমান ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির যে জোয়ার দেখা দিয়েছে, কপিলের কথা এবং আচরণে তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে৷ বস্তুত, কপিল গুলি ছোড়ার দুই দিন আগে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর 'গদ্দার'দের গুলি করার হুমকি দিয়েছিলেন৷

কপিল যতই হিন্দুত্ববাদী কথা বলুক, মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, বন্দুকবাজ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপের সদস্য। কয়েকটি ছবি দেখিয়ে প্রকাশ্যে এই দাবি করা হয়েছে দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে। পরে পুলিশের দেখানো ছবি সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ভাইরাল হয়ে যায়। বিজেপি দিকে দিকে প্রচার করতে শুরু করে, জামিয়ার বন্দুকবাজ আপের সদস্য৷

আপ তো বটেই, কপিলের পরিবারও দিল্লি পুলিশের এই দাবি অস্বীকার করেছে৷ কপিলের বাবা জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় আপ যখন প্রচারে এসেছিল, সে সময় সাদা-নীল টুপি পরেছিলেন পাড়ার সকলেই৷ কপিল এবং তাঁর বাবাও পরেছিলেন। কিন্তু তাঁরা কখনও আপে যোগ দেননি৷ বরং কপিলের বাবার দাবি এক সময় মায়াবতীর দল বিএসপি-র হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি৷ কিন্তু তার পরে আর কখনও সরাসরি রাজনীতি করেননি। ইদানীং, বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিলেন তাঁরা৷ বিজেপির প্রার্থীকে মালা দিয়ে সম্মানও জানিয়েছেন৷

কপিলের বাবার এই বক্তব্যকেই হাতিয়ার করেছে আপ৷ দলের নেতা এবং সাংসদ সঞ্জয় সিংহের অভিযোগ, ‘‘বিজেপি বুঝে গিয়েছে, দিল্লি নির্বাচনে তাঁদের ভরাডুবি হবে৷ তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুলিশকে দিয়ে মিথ্যে বলিয়ে শেষ মুহূর্তে আপকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছেন৷ কিন্তু এ ভাবে মিথ্যের রাজনীতি করে আপকে হারানো যাবে না৷’’

দিল্লির শাসক দল আপ হলেও রাজ্যের পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অর্থাৎ, পুলিশের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রীয় সরকার৷ বস্তুত এর আগেও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বিজেপির কথায় চলার একাধিক অভিযোগ উঠেছে৷ কিছু দিন আগে হিন্দুত্ববাদীরা আক্রমণ চালিয়েছিল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু পুলিশ সাংবাদিক বৈঠক করে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল, তাঁদের অধিকাংশই বামপন্থি ছাত্রছাত্রী৷ ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে যাঁদের হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল৷ প্রশ্ন উঠেছিল, পুলিশ যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, তাঁরাই কী ভাবে আক্রান্ত হলেন?

মঙ্গলবার পুলিশের দাবি শোনার পরেও নাগরিক সমাজে একই প্রশ্ন উঠেছে৷ বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং সমাজকর্মী আশিস গুপ্তের বক্তব্য, ‘‘দিল্লি পুলিশ বার বার দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছে৷ দেখা যাচ্ছে, তারা খোলাখুলি ভাবে বিজেপির হয়ে সওয়াল করছে। এতে পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে৷’’

বিজেপি অবশ্য এ কথা মানতে নারাজ৷ বিজেপির যুব মোর্চার সম্পাদক সৌরভ শিকদারের বক্তব্য, ‘‘বিরোধীদের অপছন্দের সত্য সামনে এলেই তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনীতির অভিযোগ তোলে৷ পুলিশ সে কথাই বলছে, যা তাদের তদন্তে উঠে আসছে৷’’

ডয়চে ভেলের দিল্লি প্রতিনিধি স্যমন্তক ঘোষ
স্যমন্তক ঘোষ ডয়চে ভেলে, দিল্লি ব্যুরো