1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

সুইডেনের প্রত্যন্ত দ্বীপে পর্যটনের আনন্দ

৪ জানুয়ারি ২০২৪

লন্ডন, প্যারিস, নিউ ইয়র্কের মতো বড় শহর অনেক পর্যটক আকর্ষণ করে৷ কিন্তু সুইডেনের কিছু মানুষ ক্ষুদ্র এক দ্বীপে ছুটি কাটাতে ভালোবাসেন৷

https://p.dw.com/p/4ar59
সুইডেনের অনেক পর্যটক হামনেসকেয়ার দ্বীপে সময় কাটাতে ভালোবাসেন।
সুইডেনের অনেক পর্যটক হামনেসকেয়ার দ্বীপে সময় কাটাতে ভালোবাসেন।ছবি: DW

আবহাওয়া ভালো থাকলে হামনেসকেয়ার দ্বীপ থেকে ছবির মতো সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়৷ কিন্তু সেখানে দিন এভাবেও শুরু হতে পারে৷ ঝোড়ো বাতাসের মধ্যে স্পিডবোটে করে ২০ মিনিটে দ্বীপে পৌঁছানো গেল৷

তবে সৌভাগ্যবশত হোটেল সে ক্ষেত্রে বর্ষাতি ধার দেয়৷ পর্যটক হিসেবে ইয়োহানা ও ইয়োনাস ভিবার্গ সেই যাত্রার পর বলেন, ‘‘অসাধারণ অভিজ্ঞতা৷ তবে বেশ ভিজে গেছি৷ কিন্তু সুন্দর৷ উত্তাল আবহাওয়ার মাঝে ঢেউ ও পানির ছিটে৷ আমার কাছে জাদুময়৷''

ইয়োহানা ও ইয়োনাস ইয়োটেবর্গ শহরের কাছে থাকেন৷ সবার আগে হোটেলে চেক-ইন করে বৃষ্টির পানি মুছে ফেলতে চান তাঁরা৷ আগে সেই ঘরে লাইটহাউস রক্ষী সপরিবারে বাস করতেন৷ সংরক্ষিত ভবনের তালিকাভূক্ত সেই স্থাপনা তাই সংস্কারের পরেও আগের মতোই রয়ে গেছে৷

সে দিন আবহাওয়ারও দ্রুত উন্নতি হলো৷ দ্বীপটি ঘুরে দেখার জন্য ভালো সুযোগ৷ দ্বীপটি মাত্র আড়াইশো মিটার দীর্ঘ ও ১২০ মিটার চওড়া হওয়ায় ঘুরে দেখতে বেশি সময় লাগে না৷

২০২০ সালে মিরইয়া লিলইয়া হাগ্সইয়ো পাটার নস্টার হোটেলটি খোলেন৷ আজ সেখানে ২৪ জন অতিথির থাকার জায়গা রয়েছে৷ অতীতে জাহাজডুবি কিছু নাবিক দ্বীপে আশ্রয় নিতেন৷ লিলইয়া বলেন, ‘‘কাছেই সমুদ্রে প্রায় এক হাজার জাহাজের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে৷ সেই সব নিদর্শন উপকূলের এই অংশের ইতিহাস তুলে ধরে৷ এই লাইটহাউস তৈরির সিদ্ধান্তের পর সেটির নাম ‘পাটার নস্টার' বা ‘আওয়ার ফাদার' রাখা হলো৷ কারণ জাহাজের নাবিকরা বিপজ্জনক এই টিলার দ্বীপের পাশ দিয়ে যাবার সময় নিরাপদে থাকার জন্য প্রার্থনা করতো৷ মার্সস্ট্রান্ড আর ইয়োটেবর্গ বাণিজ্যকেন্দ্রে যাবার এটাই ছিল পথ৷''

সুইডেনের প্রত্যন্ত দ্বীপে রাত্রিযাপন

লাইটহাউসের উচ্চতা ৩২ মিটার৷ ১৮৬৮ সালে নির্মাণের সময়ে সেটা ছিল অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নিদর্শন৷ ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সেটি জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে৷ তারপর লাইটহাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ পাঁচ বছর ধরে সংস্কারের পর এখন সেখানকার ভিউইং প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরের দৃশ্য দেখা যায়৷ ইয়োহানা ও ইয়োনাস ভিবার্গ বলেন, ‘‘প্রকৃতি, সমুদ্র, বাতাসের সামনে নিজেদের ক্ষুদ্র মনে হয়৷ এখানে উঠতে বেশ বেগ পেতে হলেও সেই পরিশ্রম অবশ্যই সার্থক হয়েছে৷''

চাইলে রাঁধুনী ইয়োহান বেংটসসনের সঙ্গে সমুদ্রে ডুব দিয়ে স্নংর্কেলিংও করা যায়৷ সেইসঙ্গে পানির মধ্যে নৈশভোজের উপকরণ খোঁজার সুযোগও রয়েছে৷ ইয়োহান বলেন, ‘‘আমরা অনেক জাতের দারুণ ট্যাং অ্যালজি তুলেছি৷ যেমন এগুলি স্পাগেটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়৷ খুব সুন্দর৷ এখানে সুগার ট্যাং রয়েছে, সেটি দ্রুত বেড়ে ওঠে৷ অতি সুস্বাদু! আর আছে ফিংগার ট্যাং, সেটি দিয়ে আমি মিসো স্যুপ বানাই৷''

এবার রান্নাঘরে যাবার পালা৷ তালিকার প্রথম পদে অ্যালজির ভিত্তিতে এক স্টার্টার পরিবেশন করা হচ্ছে৷ হাতে একপাত্র ওয়াইন নিয়ে সারা দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে৷ ইয়োহানা ভিবার্গের মতে, ‘‘এই আবহাওয়া, এই দ্বীপ, প্রথমদিকের বৃষ্টি থেকে শুরু করে উষ্ণতা, তারপর সূর্যাস্ত গোটা জায়গাটাকে অসাধারণ করে তুলেছে৷ লাইটহাউস ও সেখান থেকে জাদুময় দৃশ্য তো আছেই৷''

খোলা আকাশের নীচে সুইডেনের সবচেয়ে প্রত্যন্ত হোটেলে দিন শেষ হচ্ছে৷ আজ সুইডেনের পশ্চিম উপকূলের সেরা পদ পরিবেশন করা হচ্ছে৷

ইয়েন্স ফন লার্খার/এসবি