‘বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের ফি দিতে হবে’
১৯ এপ্রিল ২০১৩জার্মানির স্যাক্সনি রাজ্যের লাইপসিশ শহরের সংগীত-নাটক মহাবিদ্যালয় এইচএমটি৷ ইসরায়েল থেকে আগত সামুয়েল গিটম্যান সেখানকারই ছাত্র৷ এ'যাবৎ প্রতি সেমেস্টারে ১১০ ইউরো ফি দিচ্ছিলেন সামুয়েল৷ আগামী সেপ্টেম্বর থেকে সেই ফি বেড়ে ১,৮০০ ইউরো হবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে একটি সহজ ই-মেইলে৷
লাইপসিশে সংগীত নিয়ে পড়াশুনা করটা ছিল সামুয়েলের চিরকালের স্বপ্ন৷ ‘‘এবার আমার এখানে পড়াশুনো বন্ধ করতে হবে,'' ই-মেইলটা পড়ার পর ভেবেছিলেন সামুয়েল৷ এইচএমটি'র ৯০০ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে সামুয়েলের মতো আরো প্রায় ১২০ জন ‘বিদেশি' পড়ুয়া আছে, যাদের এই নতুন, বর্ধিত ফি দিতে হবে৷ এদের সবাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহির্ভূত দেশ থেকে এসেছে৷ সেই কারণেই এদের বেশি ফি দিতে হচ্ছে, কেননা এইচএমটি'র নতুন নিয়ম শুধু ইইউ-বহির্ভূতদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য৷ আবার তাদের মধ্যেও যারা বেলারুশ কিংবা আর্মেনিয়ার মতো অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশ থেকে এসেছে, তারাই পরামর্শ নিতে ছাত্রসংগঠনের কাছে যাচ্ছে৷
নাকের বদলে নরুণ
এইচএমটি'র রেক্টর রবার্ট এয়ারলিশ বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের সমস্যাটা বোঝেন, কিন্তু সান্ত্বনা দেবার মতো তাঁর শুধু এটুকু আছে যে, কলেজের কিছু কিছু স্কলারশিপ দেবার কথা৷ স্যাক্সনি রাজ্যের যে নতুন কলেজ সংক্রান্ত আইনে ফি বাড়ানোর পন্থা স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, সেই আইনেই বলে দেওয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীদের কিছু পরিমাণ স্কলারশিপ দেবারও ব্যবস্থা রাখতে হবে৷ তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের উচ্চতর ফি যোগাতে অসুবিধা হবে বলে এয়ারলিশ ধরে নিচ্ছেন৷ কাজেই বর্ধিত ফি থেকে প্রাপ্য অর্থের এক-চতুর্থাংশ ঐ ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি হিসেবে দেওয়া হবে৷ মুশকিল এই, কোন শর্তে সেই বৃত্তি দেওয়া হবে, ছাত্রছাত্রীরাই বা কীভাবে প্রমাণ করবে যে, তারা অভাবী, এ'সব প্রশ্নের জবাব এখনো কেউ জানে না৷
এ'বছরের গোড়া থেকে স্যাক্সনি রাজ্যের কলেজ-ইউনিভার্সিটিগুলি নিজেরাই ঠিক করবে, তারা ইইউ-বহির্ভূত দেশগুলি থেকে আগত ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ফি নেবে কিনা, এবং নিলে কোন পরিস্থিতিতে৷ আপাতত স্যাক্সনির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের ফি বাড়ানোর কথা ভাবছে না, কেননা কেউই চায় না যে, সেই আতঙ্কে বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা এখানে পড়তে আসা বন্ধ করে দিক৷ লাইপসিশ বিশ্ববিদ্যালয়ও তার ‘‘আন্তর্জাতিকতা'' বজায় রাখতে চায়৷
নাভিশ্বাস
লাইপসিশ সংগীত-নাটক বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা আলাদা৷ এইচএমটি'র অধ্যাপকরা বর্ধিত বেতন চাইছেন, কিন্তু স্যাক্সনি সরকার তার জন্য বর্ধিত অর্থসংস্থান করতে রাজি নন৷ অথচ গত দশ বছর ধরে এইচএমটি'র অধ্যাপকদের বাস্তবিক বেতন প্রায় বাড়েনি বললেই চলে৷ অনেকেই এখন অন্যত্র চাকুরি খুঁজতে শুরু করেছেন, বলে জানালেন রেক্টর রবার্ট এয়ারলিশ৷ সব মিলিয়ে এইচএমটি'র ডুবজল৷ তাই লজ্জার মাথা খেয়ে এইচএমটি ইইউ-বহির্ভূত দেশগুলি থেকে আগত ছাত্রছাত্রীদের ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷
স্যাক্সনির নতুন আইনটির জার্মান নাম হল ‘‘হোখশুলফ্রাইহাইটসগেজেৎস'' বা ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা আইন'৷ ‘স্বাধীনতা' বলতে ফি বাড়ানোর স্বাধীনতা৷ সেই স্বাধীনতার মূল্য যাদের দিতে হচ্ছে এবং হবে, তারা বিষয়টিকে একটু অন্য চক্ষে দেখতে পারেন৷