1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

নতুন মেশিন কমাবে ভারতের নিষ্কাশন সমস্যা

২৪ নভেম্বর ২০১৮

কোনো মুখোশ বা দস্তানা ছাড়াই মানুষের বর্জ্য নর্দমা থেকে খালি হাতে পরিষ্কার করতে গিয়ে প্রতিদিন ভারতে শত শত মানুষ মারা যান৷ এই অভ্যাস বা ‘ম্যানুয়েল স্ক্যাভেঞ্জিং' রোধ করতে বাজারে এসেছে নতুন মেশিন৷

https://p.dw.com/p/38nYH
Indien Symbolbild Angehöriger der Dalit-Kaste
ছবি: picture alliance/Pacific Press/S. Paul

 

ভারতে জাত ও বর্ণপ্রথার ফলে বিভিন্ন জাত বা ‘কাস্ট'-এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিশেষ কিছু পেশা৷ সেভাবেই সমাজের সর্বনিম্ন জাতের ভাগে পড়ে বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ, যেমন মল বা মরদেহ ইত্যাদি বস্তুর নিষ্কাশনের দায়িত্ব৷ হাজার হাজার বছর পরে এখনো ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলে বর্তমান এই ধারা৷ কোনোরকমের সুরক্ষামূলক মুখোশ বা দস্তানা ছাড়াই কিছু বিশেষ জাতের মানুষ (যারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র অংশের মানুষও) শুধু নিজেদের হাত দিয়ে নালা-নর্দমা পরিষ্কার করে থাকেন বলেই এই পেশাকে বলা হয় ‘ম্যানুয়েল স্ক্যাভেঞ্জিং'৷ মনে রাখতে হবে, এই নর্দমাগুলিতে বর্জ্য বস্তুর পাশাপাশি থাকে বিষাক্ত গ্যাসও, যা ভীষণ বিপজ্জনক৷

এই সমস্যার মোকাবিলা করতে গত সোমবার, বিশ্ব শৌচাগার দিবস উপলক্ষে ভারতের ‘সুলভ ইন্টারন্যাশনাল' সংস্থা একটি নতুন মেশিন বাজারে এনেছে৷

এই সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী, গত তিন বছরে নর্দমা পরিষ্কার করতে গিয়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩০০ ব্যক্তি৷ নতুন এই যন্ত্রটি বিশাল আকারের সিরিঞ্জ দিয়ে নালায় জল ভরে৷ জলের চাপে বর্জ্য বস্তু মাটির ওপরে উঠে এসে একটি বড় পাত্রে জমা হয়৷ রিমোটচালিত এই মেশিনে থাকবে ক্যামেরাও, যার সাহায্যে নালার অবস্থার ছবি দেখতে পাবেন সাফাইকর্মীরা৷

 

সুলভ ইন্টান্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা বিন্দেশ্বর পাঠকের মতে এই পেশা অসম্মানজনক এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ৷

‘‘এই মেশিন নিরাপদে নোংরা পরিষ্কার করবে ও এতে কোনো প্রাণ হানির ভয় থাকবে না৷''

নতুন আইন প্রনয়ণ করে ভারতে বহু পুরোনো এই প্রথাকে বন্ধ করার একাধিক উদ্যাগ নেওয়া হলেও বেসরকারি ক্ষেত্রে তা রোধ করা হয়ে উঠছে না৷

শুধু তাই নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীরা এখনো হাত দিয়েই মল বা অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করেন, যা ভারতে পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাবের দিকেও আঙুল তোলে৷

এই দুই সমস্যার বিরুদ্ধেই লড়ছে বিন্দেশ্বর পাঠক ও তাঁর সংস্থা৷

এসএস/এসিবি (এএফপি)