1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
উদ্ভাবনসাউথ আফ্রিকা

তিমির সুরক্ষায় সাউথ আফ্রিকায় আন্তরিক উদ্যোগ

২১ ডিসেম্বর ২০২২

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাণীও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিপন্ন হয়ে উঠছে৷ দক্ষিণ আফ্রিকার গবেষকরা এক বিশেষ প্রজাতির তিমি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে এ বিষয়ে আরো তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন৷

https://p.dw.com/p/4LGCG
Whale in South Africa's coast
Whale in South Africa's coastছবি: DW

দেখলে প্রচলিত তিমি শিকার মনে হলেও এখানে মোটেই সেটা ঘটছে না৷ প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যামাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ম্যাথিউ খ্যারমিসহাউজেন ও তার সহকর্মীরা তিমির কল্যাণেই বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করছেন৷ ম্যাথিউ ও তার সহকর্মী জানালেন, ‘‘ত্বক ও ফ্যাটের অংশ সংগ্রহ করতে তিরের মধ্যে কয়েকটি বঁড়শি রয়েছে৷ কালো অংশটি ত্বক৷ আর এটা ফ্যাটের অংশ৷ বিভিন্ন বিশ্লেষণের জন্য এটা কাজে লাগে৷ এটা একেবারেই বেদনাদায়ক নয়৷ অনেকটা মৌমাছির হুল ফোটানোর মতো অনুভূতির মতো৷ তিমি কখনো লেজ তুলে দেয়৷ তবে সাধারণত পানিতে ডুব দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে সব ভুলে যায়৷''

অনেক সাদার্ন রাইট হোয়েল কেপ টাউনের পূর্বে হার্মানুস উপসাগরে শীতকালে আশ্রয় নেয়৷ অ্যান্টার্কটিকায় নিজেদের খোরাকের এলাকা ছেড়ে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তিমি সেখানকার সুরক্ষিত পানিতে সন্তানের জন্ম দেয়৷ কিন্তু কিছু সময় ধরে সেখানে তিমির সংখ্যা কমে চলেছে৷ গবেষকরা এমন অবস্থার কারণ জানার চেষ্টা করছেন৷

ল্যাবে ফিরে বিজ্ঞানীরা ত্বকের নমুনাগুলি নথিভুক্ত করে মা ও শাবকদের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করেন৷ আরো বিস্তারিত ডিএনএ বিশ্লেষণের জন্য নমুনাগুলি বরফের মধ্যে জমা রাখা হয়৷ তিমির জিপিএস লোকেশনও সিস্টেমে রাখা হয়৷

রিসার্চ ম্যানেজার এল্স ফার্মইউলুন জানালেন, যে কয়েকটি তিমির শরীরে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো হয়েছে৷ ফলে এই প্রাণীর গতিবিধির উপর নজর রাখা যাচ্ছে৷ এল্স বলেন, ‘‘যেমন এই মাদি তিমি তার শাবকের সঙ্গে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে গিয়েছিল৷ এখন থেকে কি মা আর শাবক এমনটাই করবে? নাকি শাবক পরের বার একাই কোথাও যেতে চাইবে? আমরা সেই আচরণ এখনো বুঝি না৷ তাই আমরা ডিএনএ-র উপর স্থিতিশীল আইসোটোপের স্তর রাখছি৷ স্থিতিশীল আইসোটোপ আসলে ত্বকের উপর এমন চিহ্ন, যা প্রাণীগুলির খোরাকের স্থান সম্পর্কে তথ্য দেয়৷ কী খাচ্ছে, সেই তথ্যও পাওয়া যায়৷''

গবেষকদের ফাইলে হোয়েলিং স্টেশনের রেকর্ড বই রয়েছে৷ লাগামহীন শিকারের কারণে সাদার্ন রাইট হোয়েল প্রজাতি প্রায় লুপ্ত হতে বসেছিল৷ তারপর ১৯৩৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় তিমি শিকার নিষিদ্ধ করা হয়৷ তিমির সংখ্যা আবার বাড়তে থাকে৷ কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে৷ তিমির মোট সংখ্যা কমে গেছে৷ বিশেষ করে মাদি তিমির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কমে চলেছে৷ এল্স ফার্মইউলুন বলেন, ‘‘শরীর পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, যে গত ২০ বছরে মাদি তিমি আরও রোগা হয়ে গেছে৷ গত দশকে কোনো একটা বড় পরিবর্তন ঘটেছে৷''

তিমির খোরাক যে ক্রিল, সেই প্রাণী কি আরো দক্ষিণে চলে যাচ্ছে? নাকি ক্রিলের পরিমাণ কমে গেছে? তবে জলবায়ু পরিবর্তন যে বড় ভূমিকা পালন করছে, গবেষকরা সে বিষয়ে নিশ্চিত৷

স্থানীয় মানুষরা জানেন, যে তিমি আর না এলে হার্মানুস শহরের উপর বিপর্যয় নেমে আসবে৷ ‘হোয়েল ক্রাইয়ার অফ হার্মানুস' সংগঠনের বুলেলানি এনজিদি বলেন, ‘‘হার্মানুসের জন্য তিমির অনেক গুরুত্ব রয়েছে৷ এই প্রাণীর টানেই মানুষ এখানে আসে৷ সবাই তিমি দেখতে চায়৷ পর্যটনের জন্য তিমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, পর্যটনের চালিকা শক্তি বলা চলে৷''

মহামারির ফলে নিয়ন্ত্রণের মারাত্মক ধাক্কা সামলে হার্মানুস আবার গোটা বিশ্ব থেকে তিমি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে৷ তিমি ডুব দিলে, লেজ উঠে এলে দেখতে অনেকের খুব ভালো লাগে৷ এক পর্যটক বললেন, ‘‘তিমি কী সুন্দর প্রাণী! এবং এত শান্তিপূর্ণ! এই প্রাণীর কল্যাণ আমাদের নিশ্চিত করতে হবে৷ আশা করি, বিশ্বনেতারা সেটা বুঝতে পারছেন৷ শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের সবার উপর প্রভাব রাখছে৷ এবং এই ধাক্কা মোকাবিলার লক্ষ্যে আমাদের কিছু একটা করতে হবে৷ জোরালো কিছু করতে হবে৷''

মহাসাগরে পরিবর্তন সম্পর্কে ম্যাথিউ খ্যারমিসহাউজেনের মনে কোনো সংশয় নেই৷ কিন্তু তিমির উপর এই প্রক্রিয়ার প্রভাব জানতে তাঁকে সমুদ্রের উপর আরও সময় কাটাতে হবে৷

 ক্রিশ/ম্যুলার/এসবি