1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

আফ্রিকায় এআই প্রয়োগ করে চাষের সুবিধা

১৯ জুলাই ২০২৪

এআই প্রযুক্তি ও ড্রোনের কথা শুনলে উন্নত বিশ্বে ব্যয়বহুল কোনো উদ্যোগের কথা মনে হয়৷ কিন্তু আফ্রিকায় চাষিদের সহায়তা করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যেও সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে৷

https://p.dw.com/p/4iVTp
ড্রোন উড়াচ্ছেন ঘানার একজন উদ্যোক্তা
ঘানার রাজধানী আক্রায় প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে কৃষিক্ষেত্রের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব মোকাবিলার পথ খুঁজছেনছবি: Isaac Kaledzi/DW

এক ড্রোন ভুট্টা চাষের জন্য ক্ষেত প্রস্তুত করছে৷ এরিয়াল স্প্রেয়িং করতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগে৷ সেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া একই কাজের জন্য চার জন মানুষ ও অনেক ঘণ্টার প্রয়োজন হতো৷

চাষি হিসেবে দেলা বেদিয়া এই প্রথম এআইভিত্তিক ড্রোন ব্যবহার করলেন৷ ফসলের উপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা করছেন৷ নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘লাঙন চালানোর পর আমরা ন্যাপস্যাক ব্যবহার করে স্প্রে করি৷ কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম যে, স্প্রে দেওয়ার কাজের শেষে অনেক জায়গায় স্প্রে বা রাসায়নিক পড়েইনি৷ প্রযুক্তি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে৷''

মার্সেলুস মার্টি ‘প্রিসিশন সলিউশনস' সংস্থায় কাজ করেন৷ সেই কোম্পানির এআই-ভিত্তিক ড্রোন ঘানায় এখনো বিরল৷ এমন হাই-টেক সমাধানসূত্র সবে চালু হতে শুরু করেছে৷ অথচ সেগুলি চাষিদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় করতে পারে৷ মার্সেলুস বলেন, ‘‘চাষিরা প্রথমেই ভেবে বসেন, যে আকাশে ওড়ে বলে সেটা নিশ্চয় দামী৷ যেখানে জলবায়ুর সমস্যা রয়েছে, সেখানে চাষিরা এই প্রযুক্তি গ্রহণ করছেন৷ তবে চাষিদের বোঝাতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে৷ হাতেনাতে সব করে দেখিয়ে তাদের এই প্রণালীর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পথ দেখানো হচ্ছে৷''

দেশের পূর্বাঞ্চলে আফরাম প্লেন্স জেলা গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপ্রধান অঞ্চল৷ ভুট্টাই প্রধান শস্য এবং দেশের অন্যতম প্রধান খাদ্য৷ ঘানায় বছরে ৩০ লাখ টনেরও বেশি ভূট্টা উৎপাদন করা হয়৷

ঘানায় চাষে এআই

কিন্তু একাধিক হুমকির কারণে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে দেশের খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন৷ খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ওসেই ওয়ুসু-আগিয়েমান বলেন, ‘‘হুমকি সত্যি বাস্তব কারণ ঘানা ও সংলগ্ন অঞ্চলের দিকে নজর দিলে বুঝবেন, যে আমাদের সামনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এসে পড়েছে৷ প্রথমত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, তার উপর জলবায়ু পরিবর্তন জলবায়ুর পরিবর্তনশীলতার উপর প্রভাব ফেলছে৷''

ঘানার রাজধানী আক্রায় প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে কৃষিক্ষেত্রের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব মোকাবিলার পথ খুঁজছেন৷

জার্মানির জিআইজেড উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় ডার্লিংটন আকোগো এক কর্মসূচি সৃষ্টি করেছেন, যার আওতায় ড্রোনের সাহায্যে কাজু প্ল্যান্টেশনের উপর নজর রাখা হচ্ছে৷ তিনি মনে করেন, ‘‘এমনকি মাঝারি মাপের ফার্ম থাকলেও নিজের হাতে সব কাজের চেষ্টা করা বৃথা৷ সামনে গাছ দেখতে পেলেও উপরে কী যে হচ্ছে, তা দেখা যায় না৷ ফলে উপর থেকে কোনো রোগ ছড়িয়ে পড়লে সেটা সব কিছুর উপর হামলা চালাবে৷ আপনি কিছুই টের পাবেন না৷ কিন্তু আমরা এক ড্রোন ব্যবহার করছি৷ আমরা পেছনের নির্দিষ্ট গাছ দেখিয়ে বলতে পারি, যে সেটি আক্রান্ত হয়েছে৷''

ড্রোন গাছের ছবি তোলে৷ কাডি-এআই নামের সফ্টওয়্যার সেই ছবি বিশ্লেষণ করে৷ কোথায় কোন গাছে রোগ ধরেছে, সেই প্রোগ্রাম সঙ্গে সঙ্গে তা বুঝতে পারে৷ রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই চাষি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন৷ ডার্লিংটন আকোগো বলেন, ‘‘এআই সিস্টেম রোগ ও কীটপতঙ্গের মাত্রা অনুযায়ী গাছ অথবা জমিগুলিকে বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করে৷ কারণ ফার্মে রোগের প্রত্যেক লক্ষণের পেছনে ধাওয়া করা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়৷ আগেভাগে রোগ ও কীটপতঙ্গ শনাক্ত করাই মূল বিষয়৷ আগেই ধরে ফেলে সেই ধাক্কা সীমিত রাখতে পারলে ফসল বাঁচানো সম্ভব৷''

প্রযুক্তি অন্যান্য সুবিধাও দিতে পারে৷ অ্যালফ্রেড কুয়াইনর ‘প্রিসিশন সলিউশন্স' সংস্থার অন্যতম সহ প্রতিষ্ঠাতা৷ সংস্থার প্রযুক্তি এআই ব্যবহার করে গাছের বৃদ্ধি মনিটর করে৷ চাষিরা নিজেরাই সেই তথ্যের নাগাল পায়৷ বিশাল পারিশ্রমিক দিয়ে তাদের আর বিশেষজ্ঞ আনার প্রয়োজন হচ্ছে না৷

আইজ্যাক কালেদজি, ইয়ুর্গেন শ্নাইডার/এসবি

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান