1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
খেলাধুলাসাউথ আফ্রিকা

অস্ট্রেলিয়াকে বিধ্বস্ত করে এগিয়ে চলেছে সাউথ আফ্রিকা

১২ অক্টোবর ২০২৩

লখনৌর ভুলভুলাইয়াতেও পথ হারালো অস্ট্রেলিয়া, ভারতের পর হারলো সাউথ আফ্রিকার কাছেও। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর অস্ট্রেলিয়াকেও ১৩৪ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের ধারা বজায় রাখলো সাউথ আফ্রিকা।

https://p.dw.com/p/4XSIt
সেঞ্চুরি করার পর কুইন্টন ডি কক
সেঞ্চুরি করার পর কুইন্টন ডি ককছবি: Adnan Abidi/REUTERS

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য নিজেদের ব্যাটিং ইনিংসের দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। প্রথম সিদ্ধান্তটা স্টিভেন স্মিথের। কাগিসো রাবাদার বলে স্মিথের দুই চারের পর আরেকটি বল লাগলো প্যাডে। খালি চোখে মনে হচ্ছিল বল লেগ স্টাম্প মিস করবে বা আম্পায়ার্স কল হবে। সাউথ আফ্রিকা দোনোমোনো করে রিপ্লে নিলো, কিন্তু বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেল বল স্টাম্পে লাগছে। আউট! স্মিথ যতটা না বিস্মিত, সিদ্ধান্তটা বদলাতে তার চেয়েও যেন বেশি বিস্মিত আম্পায়ার জোয়েল উইলসন।

খানিক পর আবার প্রশ্ন মার্কাস স্টয়নিসের আউট নিয়ে। এবারও রাবাদার বল লেগ স্টাম্পের দিকে, গ্লান্স করতে গেলেন স্টয়নিস। একটা শব্দ হয়েছিল, তবে আম্পায়ার উইলসন এবারও আউট দিলেন না। এবারও রিভিউ নিলেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা, বল গ্লাভসে নাকি হ্যান্ডেলে লেগেছে সেটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল না। আবার গ্লাভসে লাগলেও ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী গ্লাভস যদি ব্যাটের সাথে যুক্ত না থাকে তাহলে ব্যাটার আউট হবে না। কিন্তু স্টয়নিসকে বিস্মিত করে আম্পায়ার রায় দিলেন আউটের।

অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার যা ক্ষতি হওয়ার আরও আগে হয়ে গেছে। ৩১২ রানের লক্ষ্যটা অনেক বড়, কিন্তু শুরুতেই তারা হারিয়ে ফেলে ওপেনার মিচেল মার্শকে। জেনসনের বলে মিসটাইম করে মাত্র ৭ রানেই ফিরে যান মার্শ। দুই ওপেনার ওয়ার্নার-মার্শ শুরু থেকেই ধুঁকছিলেন, শেষ পর্যন্ত ধুঁকতে ধুঁকতেই এনগিডির বলে ক্যাচ দিলেন ওয়ার্নার। তার ২৭ বলে ১৩ রানের ইনিংস দৃষ্টিনন্দন ছিল না মোটেই। এরপর স্মিথের আউটের পর রাবাদার বলে বোল্ড হয়ে গেলেন জস ইংলিশ। ম্যাক্সওয়েলও সংগ্রাম করছিলেন,  টাইমিংয়ে গড়বড় করে ৩ রানে ফিরতি ক্যাচ দিলেন কেশভ মহারাজকে। স্টয়নিসও বিদায় নিলে ৭০ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচটা কার্যত ওখানেই শেষ।

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন সংগ্রহ ১২৯, সেটা পেরুতে পারবে কিনা তা নিয়েই তখন সংশয়। তবে মিচেল স্টার্ক ও মার্নাস আর লাবুশেনের ৬৯ রানের জুটিতে সেটা পেরিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। পরাজয়ের ব্যবধানটা কিছুটা কমে তাতে।২৭ রান করে স্টার্ক জেনসেনের বলে ক্যাচ দিয়েছেন ডি ককে। লাবুশেন ফিফটির দিকে এগুচ্ছিলেন, কিন্তু মহারাজের বলে কাভারে ক্যাচ দিয়ে তিনিও ফিরে যান ৪৬ রান করে। কামিন্স-জাম্পাদের চেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নরা অলআউট ১৭৭ রানে। তিন উইকেট নিয়ে আফ্রিকার হয়ে রাবাদা সফলতম বোলার। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন জেনসেন, মহারাজ, শামসি।

সেঞ্চুরিয়ান কুইন্টন ডি কককে ফিরিয়ে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল
সেঞ্চুরিয়ান কুইন্টন ডি কককে ফিরিয়ে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলছবি: Adnan Abidi/REUTERS

দুই দলের মধ্যে বড় ব্যবধান ছিল আসলে ফিল্ডিংয়ে। সাউথ আফ্রিকা যেখানে কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেনি, সেখানে অস্ট্রেলিয়ার বোলার আর ফিল্ডারদের জন্য প্রথম ইনিংসটা ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। সাউথ আফ্রিকার দুই ওপেনার ডি কক ও অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার শত রানের জুটির পেছনে বোলারদের পাশাপাশি ফিল্ডারদের অবদানও আছে। বাউন্ডারি লাইনে অ্যাডাম জাম্পা বা শন অ্যাবটের বাভুমার ক্যাচ দুটি বেশ কঠিনই ছিল, সেগুলোকে হয়তো হাফ চান্স বলা যাবে। কিন্তু উইকেটকিপার জস ইংলিশ যে ক্যাচটি মিস করলেন, সেটা আসলে ধরতে না পারার কোনো কারণ ছিল না। শেষদিকে এসে ডেভিড মিলার-মার্কো জেনসেনদের ক্যাচ ছেড়েছেন মিচেল স্টার্ক-মার্কাস স্টয়নিস। সব মিলে এক ইনিংসেই গোটা পাঁচেক ক্যাচ ছেড়েছে অস্ট্রেলিয়া।

তিনটি জীবন পেয়েও বাভুমা অবশ্য শেষ পর্যন্ত খুব বড় সংগ্রহ করতে পারেননি, আউট হয়ে গেছেন ৫৫ বলে ৩৫ রান করে। তবে ডি কক অন্য প্রান্তে কোনো সুযোগ দেননি। আগে দুটি বিশ্বকাপ খেলেও কোনো সেঞ্চুরি ছিল না তার। অথচ এবার শ্রীলংকার পর সেঞ্চুরি পেলেন অসিদের বিপক্ষেও। সেটাও এসেছে কামিন্সকে পুল করে ছয় মেরে। শেষ পর্যন্ত ১০৬ বলে ১০৯ রান করে আউট হন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বলে।

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য এক দিক থেকে কিছুটা সৌভাগ্যবান৷ আগের ম্যাচের দুই সেঞ্চুরিয়ান রেসি ভ্যান ডার ডুসেন ও এইডেন মার্করাম এ ম্যাচে সেরকম রুদ্রমূর্তিতে ছিলেন না। ডুসেন আউট হয়ে যান ২৬ রান করে। মার্করাম অবশ্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন, তবে ৪৪ বলে ৫৬ রান করার পর তিনি ফিরে যান কামিন্সের বলে। আরেক ইনফর্ম ব্যাটসম্যান ক্লাসেনও আউট ২৯ রানে। ওখানেই শেষ হয়ে যায় সাউথ আফ্রিকার ৩৫০ রানের আশা। তবে জেনসেন ও মিলারের ২৬ ও ১৭ রানের ক্যামিওতে ৩১১ পর্যন্ত যেতে পারে তারা। অস্ট্রেলিয়ার কাছে শেষ পর্যন্ত সেই ৩১১ হয়ে দাঁড়ার অনতিক্রম্য এক পাহাড়৷

ব্যাটারদের ব্যর্থতাতেই বড় হার হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। বিশ্বকাপে এমন দুঃস্বপ্নের শুরু পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের কবে হয়েছে, সেটা তাদের মনে করতে কষ্ট হবে। অন্যদিকে সাউথ আফ্রিকা দুর্দান্ত ব্যাটিং ও বোলিংয়ে দাপুটে দুই জয়ে জানান দিচ্ছে, এবার তারা খুব বড় কিছুর দাবিদার।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

 

সাউথ আফ্রিকা ৫০ ওভারে ৩১১/৭ (ডি কক ১০৯, মার্করাম ৫৬; ম্যাক্সওয়েল ২/৩৪, স্টার্ক ২/৫৩)

 

অস্ট্রেলিয়া ৪০.৫ ওভারে ১৭৭ (লাবুশেন ৪৬, স্টার্ক ২৭; রাবাদা ৩/৩৩)

 

ফল : সাউথ আফ্রিকা ১৩৪ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা : কুইন্টন ডি কক