1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তারা বৈষম্যের শিকার!

হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা২৫ আগস্ট ২০১৬

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের নারী উদ্যোক্তাদের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার শেষে৷ গত তিন দশকে নারী উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও এমনটা হয়েছে৷ মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাস্টারকার্ড-এর এক জরিপে উঠে আসে এ তথ্য৷

https://p.dw.com/p/1JpcJ
Frauen Textilarbeiterinnen Näherinnen Bangaldesch Gewandnäherinnen
ছবি: Harun Ur Rashid Swapan

বিশ্ব উদ্যোক্তা দিবসকে সামনে রেখে একটি দেশে নারী উদ্যোক্তাদের বাস্তব অবস্থা কেমন – তার ভিত্তিতেই এই সূচক বা ইনডেক্স তৈরি করে মাস্টারকার্ড৷ এতে সমাজে নারীর অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্র-সরকার-ব্যবসায়িক উদ্যোগের প্রতি নারীর দৃষ্টিভঙ্গী এবং শিক্ষা-অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে নারীর অংশগ্রহণকে বিবেচনায় নেওয়া হয়৷

বিভিন্ন সূচকে পাওয়া পয়েন্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ১০০-তে মাত্র ২৭ পয়েন্ট পেয়েছে, যেখানে ভারত পেয়েছে ৩৩.৩ এবং শ্রীলঙ্কা ৩২.৭ পয়েন্ট৷ তবে তালিকার শুরুতে রয়েছে নিউজিল্যান্ড৷ এছাড়া অস্ট্রেলিয়া রয়েছে দ্বিতীয় এবং থাইল্যান্ডের তৃতীয় স্থানে৷

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো তাদের নারী উদ্যোক্তাদের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে অপেক্ষাকৃত ভালো কাজের পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে৷ চেষ্টা করছে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তাঁদের জ্ঞান এবং যোগ্যতাকে মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পরিবেশ তৈরির৷

নাসরিন আওয়াল

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নারী উদ্যোক্তাদের এই ধারাক্রমে তারাই ভালো করেছে, যারা নারীদের উদ্যোগ নেওয়ার ‘সুযোগ' করে দিয়েছে৷ নারী উদ্যোক্তারা যেখানে অপরিহার্য, শুধু সেইসব খাতকে যারা প্রণোদনা দিয়েছে, তারা এই ধারাক্রমে পিছিয়ে পড়েছে৷

মালয়েশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এ সব দেশে নারী উদ্যোক্তা থাকলেও তাঁদের কাজের পরিবেশ অনুকূল নয়৷ ‘অপরিহার্যতার' বিবেচনাতেই তাঁরা উদ্যোক্তা৷ অর্থাৎ যেসব উদ্যোগ নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া সফল হয় না, একমাত্র সেসব খাতেই তাঁরা উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন৷ এ কারণে এই দেশগুলো ধারাক্রমে পিছিয়ে পড়েছে৷ উদ্যোক্তাদের প্রণোদনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পয়েন্ট ১০০-তে মাত্র ১১.৮৷ আর নারীর অগ্রগতি ও উদ্যোগ নেওয়ার প্রবণতায় বাংলাদেশের অর্জন ১০০-তে ১৫.৩ পয়েন্ট৷

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসরিন আউয়াল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আসলেই নারী উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বৈষম্যের শিকার৷ তাঁদের ছাড়া যে শিল্প উদ্যোগ সম্ভব নয়, একমাত্র সেখানেই তাঁদের প্রণোদনা দেয়া হয়৷ অথচ সাধারণ উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁরা সহযোগিতা বা প্রণোদনা পান না৷''

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে এসএমই খাতে নারীরা নিজ উদ্যোগে অনেক এগিয়েছেন৷ তাঁরা কঠোর পরিশ্রম করছেন, কিন্তু ব্যাংক তাঁদের ঋণ দিচ্ছে না৷ তাই তাঁরা যে তাঁদের পণ্য বাজারে দেখাবেন, তার জন্য শো রুমের ব্যবস্থা করতে পারছেন না তাঁরা৷ আবার দেশের বাইরে পণ্যের রাজার সৃষ্টি করতে বিদেশে গিয়ে ক্রেতা খোঁজার সামর্থও তাঁদের নেই৷ আসলে এ জন্য প্রয়োজন সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহয়তা৷ সেটা পেলে বাংলাদেশের নারীদের অবস্থান এত নীচে থাকত না৷''

নাসরিন আউয়াল আরো বলেন, ‘‘যতই বলা হোক না কেন, আমাদের কিন্তু প্রথমে ‘মাইন্ড সেট' পরিবর্তন করতে হবে৷ ব্যাংকগুলো এখনো নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে চায় না৷ আর প্রচলিত কোনো ভারী শিল্প স্থাপন করতে চাইলে তো কথাই নেই৷ সেক্ষেত্রে ঋণ পাওয়া নারীদের জন্য প্রায় অসম্ভব৷''

তাঁর কথায়, ‘‘এর বাইরে আইন-শৃঙ্খরা পরিস্থিতির অবনতিও নারী উদ্যোক্তাদের বাধাগ্রস্ত করছে প্রতিনিয়তই৷''

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য