1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

সাত বছরেও শেষ হয়নি রামু হামলার বিচার

তৌফিকুল ইসলাম লিপু কক্সবাজার, বাংলাদেশ
২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সাত বছর আগে কোরআন অবমাননা করে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করার অভিযোগ তুলে রামুর ১২টি বৌদ্ধমন্দিরে আগুন দেয়া হয়৷ হামলা করা হয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরেও৷ এ ঘটনায় ১৯টি মামলার কোনটিরই এখনও কোনো মীমাংসা হয়নি৷

https://p.dw.com/p/3QR2c
Bangladesch | Ramu Mahabihar
ছবি: DW/T. Lipu

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এসব হামলার ঘটনা ঘটে৷ ক্ষমতাসীন দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেয়ার অভিযোগ ওঠে৷

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার মাথা গোঁজার ঠাই পেয়েছিল৷ পরবর্তীতে পুড়ে যাওয়া বৌদ্ধ বিহার এবং বসতবাড়িও নির্মাণ করে দিয়েছিল সরকার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল দ্রুত বিচারের৷

Bangladesch Dhaka Anschlag Tempel
২০১২ সালের হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ রামুর একটি বৌদ্ধ মন্দিরছবি: AFP/Getty Images

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের এক সদস্য জয় বড়ুয়া এখনও সময় পেলেই আসেন রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে৷ বর্তমানে রামুতে সম্প্রীতি কতটুকু ফিরে এসেছে? জয় বলেন, ‘‘বর্তমানে রামুবাসীর বিশেষ করে বৌদ্ধ, মুসলিম এবং হিন্দুদের মাঝে সম্প্রীতি কিছুটা ফিরে আসলেও এখনো ক্ষতটা রয়ে গেছে৷'' কিন্তু এ হামলার দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেয়া হলেও, সাত বছরেও ১৯টি মামলা দেখেনি আলোর মুখ৷ সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত বিচার শেষ করতে তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানান৷

২০১২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে মিছিল নিয়ে আসা হাজার হাজার মানুষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন তৎকালীন ফতেঁকারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল৷ মাইকে সকলকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করলেওথামাতে পারেননি হামলা৷ চোখের সামনে নিজ এলাকার হাজার বছরের স্মৃতি পুড়ে যেতে দেখেছিলেন তিনি৷

সোহেল সরওয়ার কাজল

এখন সোহেল সরওয়ার কাজল রামু উপজেলা চেয়ারম্যান৷ তিনি জানান, ‘‘সেদিনের সেই ঘটনা আমাদেরকে আসলে নাড়া দিয়েছিল৷ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে আমরা সেদিন লড়াই করেছিলাম, চেষ্টা করেছি সেটি নিবারণ করার জন্য৷ অনেকটা পেরেছি আবার অনেকখানি পারেনি৷ এতদিন পরে এসে এত বছর কিভাবে চলে গেছে সেটিও কল্পনা করতে পারিনা৷ তবে সেই ক্ষত এখনো আমরা ভুলতে পারি নাই৷ সেটিকে মনে রেখে আগামীতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি৷'' 

হামলার রাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার৷ বিহারের সহকারি পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন৷ হামলার সাত বছর পার হলেও কাঙ্খিত বিচার না পেয়ে এক প্রকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন বলে মন্তব্য তাঁর৷

তিনি  বলেন, ‘‘ঘটনার পরপরই যেসব ব্যক্তিরা স্বপ্রণোদিত হয়ে সাক্ষী দিতে চেয়েছিল, দীর্ঘ সময় পর বিভিন্ন সমীকরণ কিন্তু তাদের মনের মধ্যে কাজ করছে৷ দীর্ঘ সময় পর সাক্ষীরা এখন সাক্ষ্য দিতে চান না৷'' এমন অবস্থায় মামলার ভবিষ্যত কী, তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত৷ 

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু

হামলার পর বিভিন্ন সংস্থা এই ঘটনা তদন্ত করে৷ পুলিশ, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন সবকটি মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে৷ রামু হামলায় মামলা হয়েছিল মোট ১৯ টি৷ আপোসের ভিত্তিতে একটি প্রত্যাহার হলেও বাকি সবকটির অভিযোগপত্র এখন আদালতে৷

সরকারি কৌশলী এডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, ‘‘মামলার যারা সাক্ষী রয়েছে, তাদের অনীহার কারণেই মূলত মামলার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে৷ রামু, উখিয়া, টেকনাফে সেদিন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে যে একটা অসুন্দরের ছাপ পড়েছিল, সুষ্ঠু বিচারের মধ্য দিয়ে আমরা সেটা দূর করার চেষ্টা করবো৷''

রামু, উখিয়া ও টেকনাফে সহিংসতার ঘটনায় এজাহারভুক্ত ৩৭৫ জনসহ ১৫ হাজার ১৮২ জনের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে ১৮টি মামলায় ৯৪৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় তদন্তকারী সংস্থা৷ এসব ঘটনায় আটক হওয়া সব আসামিই এখন জামিনে রয়েছেন৷ 

 

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান